1. suhagranalive@gmail.com : admin :
April 13, 2021, 9:34 am
শিরোনাম:
আজ পিরোজপুরে ঐতিহাসিক পতাকা উত্তোলন দিবস পিরোজপুরে গাঁজা চাষি ডিবি’র হাতে গ্রেফতার মঠবাড়িয়ায় নৌকার রাজনীতিতে সুবাতাস বইছে বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকীতে পিরোজপুরে বিসিক শিল্প মেলা শুরু বঙ্গবন্ধুর বর্নাঢ্য রাজনৈতিক জীবন এনে দিলো বাঙালির স্বাধীনতা যথাযোগ্য মর্যাদায় পিরোজপুরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ও শিশু দিবস পালিত বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে শিশুদের মাঝে পিরোজপুরের পুলিশ সুপার হায়াতুল ইসলাম খান আজ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস ভয়াবহ সংঘর্ষ এড়াতে বরগুনার গুলিয়াখালীতে প্রশাসনের ইউনিয়নে ১৪৪ ধারা ছাত্র ইউনিয়নের জেলা সম্মেলন অনুষ্ঠিত, ইমন চৌধুরী সভাপতি আব্বাস তালুকদার সম্পাদক নির্বাচিত

আজ পিরোজপুরে ঐতিহাসিক পতাকা উত্তোলন দিবস

  • প্রকাশের সময় Tuesday, March 23, 2021
  • 54 জন দেখেছেন

পিরোজপুর অফিসঃ আজ ঐতিহাসিক ২৩ শে মার্চ, ১৯৭১ সালের এই দিনে, পিরোজপুরের টাউন হল ময়দানে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করেন তৎকালীন মহকুমা ছাত্রলীগের সভাপতি এবং সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজের ভিপি, আদর্শ পাড়া নিবাসি, শহীদ ওমর ফারুক।

৪ ঠা জুন ১৯৭১ সালে, পাকিস্তানী বর্বর বাহিনী, ছাত্রনেতা ওমর ফারুকের মাথায়, পতাকার লোহার দন্ড হাতুড়ি পিটিয়ে ঢুকিয়ে নির্মম ভাবে হত্যা করে এবং গাছের সাথে ৩ দিন ঝুলিয়ে রাখে।
১৯৭১ সালের মার্চ মাসের ২ তারিখ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের সামনে বিক্ষুব্ধ ছাত্রদের সভায় রোকেয়া হলের সামনে থেকে একটি বাঁশের মাথায় পতাকা বেঁধে মিছিল সহকারে নিয়ে এসে, ডাকসু সহ সভাপতি আ স ম আব্দুর রবের হাতে দেওয়া হলে, তিনি সেই পতাকাটি ছাত্র সমাবেশে তুলে ধরেন।
পিরোজপুরের মহকুমা ছাত্রলীগ সভাপতি ওমর ফারুক, সেই সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।
৩ রা মার্চ বিকালে ঢাকা থেকে আগত সামসুল হক ( এম এন এ মঠবাড়িয়া), ছাত্রলীগ সভাপতি ওমর ফারুক ও আওয়ামীলীগ নেতা বদিউল আলমের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের কর্মীরা পিরোজপুরে পাকিস্তানের পতাকায় অগ্নীসংযোগ করতে করতে মিছিল সহকারে শহর প্রদক্ষিন করেন।
এর আগে ২ রা মার্চ ছাত্র ইউনিয়ন (মতিয়া চৌধুরী) শহরে বাঁশের লাঠি এবং ডামি রাইফেল নিয়ে সদর রাস্তায় সকাল থেকে সুশৃংখল ভাবে মহড়া প্রদর্শন করলে পথচারী জনসাধারণ করতালি দিয়ে তাদের অভিনন্দন জানান। ( সূত্র : Pirojpur.gov.bd)

২৩ শে মার্চ ১৯৭১, সকাল ১১ টার দিকে ছাত্রনেতা ওমর ফারুক, স্বাধীন বাংলার প্রথম পতাকা ( সবুজ জমীনে লাল বৃত্ত, মাঝে সোনালী মানচিত্র) পিরোজপুরের গোপাল কৃষ্ণ টাউন হল ময়দানে, বিপুল লোকসমাবেশে উত্তোলন করেন।
এরপর ২৬ শে মার্চ একদফা পিরোজপুর অস্ত্রাগার থেকে আগ্নেয়াস্ত্র সংগ্রহ করে পিরোজপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধারা মে মাসের প্রথম দিকে দ্বিতীয়বার ট্রেজারী আক্রমন করলে, শহরে পাক বাহীনীর আগমন ঘটে, এবং তারা হত্যাযজ্ঞ ও তান্ডব শুরু করে দেয়।

যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে মাতিভাঙা হয়ে ভারতের দিকে অগ্রসর হবার চেষ্টারত ছাত্রনেতা ওমর ফারুক ২৯ শে মে সকাল ৬ টায় বাউলাকান্দা ফেরার পথে, এক সময়ে পিরোজপুরে কর্মরত পুলিশ সদস্য হানিফ তাকে চিনে ফেলে এবং আলবদরদের সহায়তায় আটক করে বরিশাল কোতোয়ালী থানায় নিয়ে যায়।
পরবর্তীতে পাক বাহিনীর সদস্যরা বরিশালের কীর্তনখোলা নদীর তীরের ১৪ গোডাউন ঘাটের বধ্যভূমিতে নিয়ে, ওমর ফারুক কে তার সহযোদ্ধাদের নাম বলার জন্য অমানুষিক নির্যাতন চালায়
তাকে বলা হয়, পাকিস্তান জিন্দাবাদ বলতে।
ওমর ফারুক কোনো ভাবেই তার সহযোদ্ধাদের নাম প্রকাশ তো করেনই নি, বরং তার শরীরের সর্বশক্তি দিয়ে বলে উঠেছিলেন, জয় বাংলা।
ক্ষিপ্ত হয়ে পাকিস্তানী সেনারা ছাত্রনেতা ওমর ফারুকের মাথায় পতাকার স্ট্যন্ড হাতুড়ী দিয়ে পিটিয়ে পিটিয়ে ঢুকিয়ে ক্ষত বিক্ষত করে এবং চরম নির্যাতনে তিনি শহীদ হন।
শহীদ ওমর ফারুকের লাশ, তিনদিন গাছের সাথে লটকে রাখা হয়। সম্ভবত তার লাশ কীর্তনখোলা নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া সমগ্র বাংলাদেশের অন্যান্য জেলার চাইতে পিরোজপুর জেলার মহান মুক্তিযুদ্ধের সমৃদ্ধ ইতিহাস থাকা সত্বেও,শহীদ ওমর ফারুক, শহীদ ফজলুল হক খোকন, শহীদ ভাগীরথী সহ পিরোজপুরের স্থানীয় শহীদ মুক্তিযোদ্ধারা জাতীয় ভাবে এখন ও মুল্যায়িত হননি, বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনের এই মহান ক্ষণে, বেকুটিয়া সেতু,অথবা পিরোজপুর জেলা স্টেডিয়াম এর নাম শহীদ ওমর ফারুকের নামে করলে এই মহান শহীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা দেখানোর সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে পিরোজপুরবাসীর বিশ্বাস।
তথ্যঃ নারী নেত্রী সালমা রহমান হ্যাপী,শহীদ ওমর ফারুকের বোন।

শেয়ার করুন

একই ধরনের খবর
ব্রেকিং নিউজ