1. suhagranalive@gmail.com : admin :
July 30, 2021, 4:53 pm
শিরোনাম:
পিরোজপুরে চালু হলো বিনামূল্যে অক্সিজেন ব্যাংক করোনার লকডাউনে ভাল নেই ভাসমান সবজি হাটের ক্রেতা বিক্রেতা স্বাধীনতার সূর্য সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবার থাকেন পলিথিনের ঝুপড়ি ঘরে! শেখ হাসিনা সেনানিবাসের জিওসি মেজর জেনারেল আবুল কালাম মো: জিয়াউর রহমান জেলার করোনা পরিস্থিতি ও লকডাউন কার্যক্রম বাস্তবায়ন পরিদর্শনে আজ পিরোজপুরে পিরোজপুরে সর্বোচ্চ সতর্কতায় চলছে তৃতীয় দিনের লকডাউন সরকারি খাদ্য সহায়তা সঠিকভাবে পৌঁছাতে কাজ করছে প্রশাসন ঢাবি’র কাছে শততম বছরে প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি “বঙ্গবন্ধু-আওয়ামীলীগ-বাংলাদেশ”ইতিহাসে এই তিনটি নাম অমলিন অবিনশ্বর পিরোজপুরে প্রথম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন ভোটার উপস্থিত সন্তোষজনক ভোটাররা মানেনি সামাজিক দুরত্ব নুন্যতম বিশৃংখলা বা বাধাদান বরদাস্থ করা হবে না -পুলিশ সুপার পিরোজপুর  যমুনায় বঙ্গবন্ধু রেলওয়ে সেতুর নির্মাণসামগ্রী এখন মোংলায় খালাসের অপেক্ষায়

ঢাবি’র কাছে শততম বছরে প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি

  • প্রকাশের সময় Wednesday, June 30, 2021
  • 172 জন দেখেছেন

বিশেষ প্রতিবেদনঃ গণিতে স্থানীয় মান হিসেবে প্রতিটি স্থানের প্রথম সংখ্যাটি সমান গুরুত্ব বহন করে। যেমন এককের এক, দশকের দশ। তেমনি শতকের স্থানে এক শ। ক্রীড়া জগতে শতকের মানের জুড়ি নেই। ব্যাটসম্যান একটা শতক হাঁকাল কিংবা বোলার বেধড়ক মার খেয়ে শত রান খরচ করল। উভয়ই পত্রিকার হেডলাইনে জায়গা করে নেবে। পাশাপাশি কোনো মানুষের শত বছর আয়ুতে তাঁকে অনেকটা ভাগ্যবানের চোখে দেখা হয়। কোনো প্রতিষ্ঠানের শতবর্ষ পেরোলে তাকে বিভিন্ন উপাধিতে ডাকা হয়। বাংলাদেশে একাধিক শতবর্ষী স্কুল-কলেজ থাকলেও একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

বাংলাদেশের সকল সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রের প্রায় প্রতিটি অর্জনের পেছনে যে অনন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভূমিকা রেখেছে সেটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। একটি পৃথক জাতি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সরাসরি নেতৃত্ব দিয়ে পৃথিবীর বুকে অসামান্য নজির স্থাপন করা একমাত্র প্রতিষ্ঠানও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস জাতীয় প্রয়োজনের প্রতিটি মুহূর্তে জাগরণের চারণভূমি হিসেবে কাজ করেছে। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষকরাই ছিলেন অগ্রগামী।

জাতির বাতিঘর হিসেবে যুগ যুগ ধরে আলো বিলিয়ে চলা গর্বের এ বিশ্ববিদ্যালয় আজ পা রাখছে শতবর্ষে। আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শততম জন্মবার্ষিকী। কিন্তু করোনা ভাইরাসের প্রভাবে আজ ক্যাম্পাসে বিচরণ নেই শিক্ষার্থীদের। ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ হওয়ার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন করে সৃষ্টি হয়েছে সেশনজটের আশঙ্কা।

ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনকালে স্বাধীন জাতিসত্তার বিকাশের লক্ষ্যে বিশ শতকের দ্বিতীয় দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া শুরু হয়। ব্রিটিশ ভারতে তৎকালীন শাসকদের অন্যায্য সিদ্ধান্তে পূর্ববঙ্গের মানুষের প্রতিবাদের ফসল হচ্ছে এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। পূর্ববঙ্গ শিক্ষাদীক্ষা, অর্থনীতি সব ক্ষেত্রেই পিছিয়ে ছিল।

বঙ্গভঙ্গ হওয়ার পর এ অবস্থার খানিকটা পরিবর্তন হয়েছিল, বিশেষ করে শিক্ষার ক্ষেত্রে। বঙ্গভঙ্গ রদ হওয়ার পর ঢাকার স্থানীয় মুসলিম নেতারা বিশেষ করে ঢাকার নবাব স্যার সলিমুল্লাহ, ধনবাড়ীর নবাব সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ১৯১২ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেন তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জ।

১৯১৩ সালে প্রকাশিত হয় নাথান কমিটির ইতিবাচক রিপোর্ট এবং সে বছরের ডিসেম্বর মাসেই সেটি অনুমোদিত হয়। ১৯১৭ সালে গঠিত স্যাডলার কমিশনও ইতিবাচক প্রস্তাব দিলে ১৯২০ সালের ১৩ মার্চ ভারতীয় আইন সভা পাস করে দ্য ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যাক্ট। যেটা ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যাক্ট(১৩-১৯২০)নামে পরিচিত।

সৃষ্টির শুরুতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নানা প্রতিকূলতার মুখে পড়ে। কলকাতার তৎকালীন একটি শিক্ষিত মহল ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করে। এ ছাড়া ১৯১৪ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। এর ফলে পূর্ব বাংলার মানুষ হতাশা প্রকাশ করে।

১৯১৭ সালের মার্চ মাসে ইম্পেরিয়াল লেজিসলেটিভ কাউন্সিলে সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী সরকারের কাছে অবিলম্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিল পেশের আহ্বান জানান। ১৯২০ সালের ২৩ মার্চ গভর্নর জেনারেল এ বিলে সম্মতি দেন। এ আইনটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার ভিত্তি। এ আইনের বাস্তবায়নের ফলাফল হিসেবে ১৯২১ সালের ১ জুলাই যাত্রা শুরু করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

ছাত্রছাত্রীদের জন্য আজকের এই দিনে পূর্ববাংলায় জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল দেশের সর্বোচ্চ এই বিদ্যাপীঠ। সে সময়ে ঢাকার সবচেয়ে অভিজাত ও সৌন্দর্যমণ্ডিত রমনা এলাকায় প্রায় ৬০০ একর জমির ওপর পূর্ববঙ্গ, আসাম প্রদেশের পরিত্যক্ত ভবনাদি এবং ঢাকা কলেজের (বর্তমান কার্জন হল) ভবনগুলোর সমন্বয়ে মনোরম পরিবেশে গড়ে ওঠে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

প্রতিবছর ১ জুলাইকে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস’ হিসেবে পালন করা হচ্ছে। টানা ১০ দশকে এই বিদ্যাপীঠ তৈরি করেছে বহু জ্ঞানী-গুণীজন, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতা, বিজ্ঞানী, শিক্ষক আর লাখ লাখ গ্র্যাজুয়েট। দেশে-বিদেশে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে অবদান রেখেছেন তারা।

প্রতিবছর ভর্তি পরীক্ষায় সবার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, প্রতিদ্বন্দ্বিতাও হয় তীব্র। কিন্তু এর পরের অবস্থাগুলো মোটেও স্বস্তিদায়ক নয়। বিশেষত শিক্ষার মান, গবেষণা ও শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার মতো বিষয়গুলো এখনো কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি।

বিশেষত, যে উদ্দেশ্য নিয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তা কতটা পূরণ হয়েছে সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে ফেরেন অনেকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংকটের সমাধান, কেন্দ্রীয় ও হল লাইব্রেরিতে সিট সংকট, অছাত্র-বহিরাগত বিতাড়ন, সান্ধ্যকালীন বাণিজ্যিক কোর্স বন্ধ, গবেষণা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো, পরিবহন সমস্যা দূর করা, ক্যান্টিনে খাবারের মান বাড়ানো, সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিল, ক্যাম্পাসে বাইরের যান চলাচল বন্ধ সমস্যার আজও কোনো সমাধান হয়নি।

তাছাড়া বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে যুগোপযোগী শিক্ষা পদ্ধতি চালুর যে অপ্রতুলতা তো আছেই। বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর র‌্যাংকিংয়ে এ জন্য হাজারো ঐতিহ্যের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান পিছিয়ে আছে। তাই অতি শিগগিরই সংকটগুলো কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারে শতবর্ষে প্রত্যাশা থাকবে যেন দ্রুত আবাসন সংকট নিরসন, করোনায় সেশনজট মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া, সন্ধ্যাকালীন কোর্সসমূহ বাতিল, লাইব্রেরিতে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের গবেষণা অর্থ বরাদ্দ বৃদ্ধি করা, গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করে সকলের মতামত পেশ করার সুযোগ সৃষ্টি করে জ্ঞানচর্চাই হোক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃত উদ্দেশ্য।

দীর্ঘদিন যাবৎ করোনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ আছে।তাই বিদ্যমান পরীক্ষাগুলো নেয়ার ব্যবস্থা করা।করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য গতানুগতিক কাঠামোর বাইরে গিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থা চালিয়ে নেয়ার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা ভাবা উচিত। অনলাইন নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থীদের আনা উচিত।সফট লোনের আওতা বৃদ্ধি করা উচিত, যাতে শিক্ষার্থীরা খুব সহজে লোন পেতে পারে।অতিদ্রুত ভ্যাক্সিনেশনের আওতায় আনা উচিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের।আইসোলেশন সেন্টার তৈরি করা সহ এলামনাই বৃত্তি আওয়া বৃদ্ধি করা দরকার।

পরিশেষে, শতবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়টা যেন কোন ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে পরিণত না হয় সেটাই আশা রাখব। জ্ঞানচর্চা বাদ দিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী যেন প্রমোশন কিংবা ক্ষমতার পেছনে না দৌড়ায় সেটাই প্রত্যাশা করব।

তবেই পূর্ণ হবে শতবর্ষের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি। ক্যাম্পাস হবে জ্ঞান অর্জন, সংস্কৃতি ও মুক্তবুদ্ধি চর্চার উদ্যান।

লেখাঃ সাবাত আল্ ইসলাম,
শিক্ষার্থী,
ব্যাংকিং ও ইন্স্যুরেন্স বিভাগ,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

 

শেয়ার করুন

একই ধরনের খবর
ব্রেকিং নিউজ