1. suhagranalive@gmail.com : admin :
September 20, 2021, 2:30 am
শিরোনাম:
পিরোজপুরে তিন‘শো’ পরিবার পেল প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সহযোগিতা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক প্রচেষ্টার ফসল পদ্মা সেতুর উপরে সড়কপথের কাজ শতভাগ শেষ ইন্দুরকানীতে ছাত্র ইউনিয়নের নতুন কমিটি ২১ আগস্টে ঘাতকেরা ১৫ ই আগস্টের কালো অধ্যায়ের দাড়ি টানতে চেয়েছিলো!.. কবিতাঃ মহান নেতা শেখ মুজিব, “যত দূরে যাও পাখি, দেখা হবে ফের,স্বাধীন ঐ আকাশটা শেখ মুজিবের” শোকের মাসে যুবলীগ নেতা লিটন সিকদার এর তত্ত্বাবধানে ৭০০ অসহায় পরিবার পেল খাদ্য সহায়তা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পিরোজপুরে বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব এর ৯১তম জন্ম বার্ষিকী পালন ২০ বছর পরে স্বেচ্ছাসেবক লীগের পিরোজপুর জেলা কমিটি ঘোষণা পিরোজপুরে চালু হলো বিনামূল্যে অক্সিজেন ব্যাংক

“যত দূরে যাও পাখি, দেখা হবে ফের,স্বাধীন ঐ আকাশটা শেখ মুজিবের”

  • প্রকাশের সময় Sunday, August 15, 2021
  • 137 জন দেখেছেন

 

“যত দূরে যাও পাখি, দেখা হবে ফের;
স্বাধীন ওই আকাশটা শেখ মুজিবের।”

শোষণ, নির্যাতন, নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কণ্ঠ, নির্ভীক ও সৎ হৃদয়ের অধিকারী এক মহান ব্যক্তিত্ব ও বাংলার মানুষের প্রাণের নেতা, যিনি জীবনের সকল সুখ ত্যাগ করেছেন বাংলার মানুষের জন্য ভোগ করেছেন কারাজীবন একটি জাতির ভাগ্য উন্নয়নের স্বপ্ন বোনার অপরাধে অন্যায়ের প্রতিবাদের কারণে এ দেশের মানুষকে ভালবাসার কারণে, ও ২০০ বছরের ব্রিটিশ শাসন আর ২৪ বছরের পাকিস্তানী শোষণ-নির্যাতনে অতিষ্ঠ একটি জাতির আলোর ঠিকানা দিয়েছেন মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও একজন খাঁটি বাঙালী হিসেবে বঙ্গবন্ধুর জীবন দর্শন থেকে অনুপ্রাণিত হই, বাঙালী হিসেবে যাকে নিয়ে গর্ববোধ করি, তাকে হারিয়েছি এই কলঙ্কিত আগস্ট মাসে ও বঙ্গবন্ধুর সাহসী নেতৃত্বে এ ভূখন্ডের হাজার বছরের পরাধীনতার শৃঙ্খল ছিনিয়ে এনেছিল স্বাধীনতার লাল সূর্যও আমরা পেয়েছিলাম নিজস্ব রাষ্ট্র ও গর্বিত আত্মপরিচয় ও দুর্ভাগ্য আমাদের পাকিস্তান পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠী বারবার যার প্রাণ হরণ করার পরিকল্পনা করেও বাস্তবায়িত করার সাহস করেনি, সেই নিষ্ঠুর কাজ নির্মমভাবে করেছিল এ দেশের কিছু বিপথগামী সেনা সদস্যরা ও যে তর্জনী উঁচিয়ে একদিন তিনি ঘোষণা করেছিলেন এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম ‘ঘাতকের গুলি সেই তর্জনী, সাহস বিস্তৃত সেই বক্ষপুট বিদীর্ণ করেছিল। ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্টের সেই ভোরে রচিত হয়েছিল বাঙালী ইতিহাসের সবচাইতে কালো অধ্যায়।

১৫ আগস্ট জাতীয় শোকের দিন। বাংলার আকাশ-বাতাস আর প্রকৃতিও অশ্রুসিক্ত হওয়ার দিন। কেননা পঁচাত্তরের এই দিনে আগস্ট আর শ্রাবণ মিলেমিশে একাকার হয়েছিল বঙ্গবন্ধুর রক্ত আর আকাশের মর্মছেঁড়া অশ্রুর প্লাবনে।

পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট সুবেহ সাদিকের সময় যখন ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে নিজ বাসভবনে সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে বুলেটের বৃষ্টিতে ঘাতকরা ঝাঁঝরা করে দিয়েছিল, তখন যে বৃষ্টি ঝরছিল, তা যেন ছিল প্রকৃতিরই অশ্রুপাত। ভেজা বাতাস কেঁদেছে সমগ্র বাংলায়। ঘাতকদের উদ্যত অস্ত্রের সামনে ভীতসন্ত্রস্ত বাংলাদেশ বিহ্বল হয়ে পড়েছিল শোকে আর অভাবিত ঘটনার আকস্মিকতায়। কাল থেকে কালান্তরে জ্বলবে এ শোকের আগুন। ১৫ আগস্ট শোকার্দ্র বাণী পাঠের দিন, স্বাধীনতার স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী।

বঙ্গবন্ধুকে দৈহিকভাবে হত্যা করা হলেও তার মৃত্যু নেই। তিনি চিরঞ্জীব। কেননা একটি জাতিরাষ্ট্রের স্বপ্নদ্রষ্টা এবং স্থপতি তিনিই। যতদিন এ রাষ্ট্র থাকবে, ততদিন অমর তিনি। সমগ্র জাতিকে তিনি বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রেরণায় প্রস্তুত করেছিলেন ঔপনিবেশিক শাসক-শোষক পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়তে। তাই চিরঞ্জীব তিনি এ জাতির চেতনায়। বঙ্গবন্ধু কেবল একজন ব্যক্তি নন, এক মহান আদর্শের নাম। যে আদর্শে উজ্জীবিত হয়েছিল গোটা দেশ। বাঙালি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র আর ধর্মনিরপেক্ষ দর্শনে দেশের সংবিধানও প্রণয়ন করেছিলেন স্বাধীনতার স্থপতি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব। শোষক আর শোষিতে বিভক্ত সেদিনের বিশ্ববাস্তবতায় বঙ্গবন্ধু ছিলেন শোষিতের পক্ষে।

পাকিস্তানি শাসন-শোষণের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ২৪ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধু ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ঐতিহাসিক ভাষণে স্বাধীনতার যে ডাক দিয়েছিলেন তা অবিস্মরণীয়। সেদিন তাঁর বজ্রকণ্ঠে উচ্চারিত ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম/এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ এই অমর আহ্বানেই স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল নিপীড়িত কোটি বাঙালি। সেই মন্ত্রপূত ঘোষণায় বাঙালি হয়ে উঠেছিল লড়াকু এক বীরের জাতি।

আবার ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে ইতিহাসের নৃশংসতম গণহত্যার পর ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরেও বঙ্গবন্ধুর কণ্ঠেই জাতি শুনেছিল মহান স্বাধীনতার অমর ঘোষণা। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ওই রাতে বঙ্গবন্ধুকে ধানমন্ডির বাসভবন থেকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। এরপর মহান মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস তাকে বন্দি থাকতে হয় পাকিস্তানের কারাগারে। তার আহ্বানেই চলে মুক্তিযুদ্ধ। বন্দিদশায় মৃত্যুর খবর মাথায় ঝুললেও স্বাধীনতার প্রশ্নে আপস করেননি অকুতোভয় এ মহান নেতা। মুক্তিযুদ্ধ শেষে বাঙালির প্রাণপ্রিয় নেতাকে ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হয় পাকিস্তান। বীরের বেশে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি তার স্বপ্নের স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে আসেন বঙ্গবন্ধু।

দেশে ফিরে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ার কাজে নিজেকে নিয়োজিত রাখার পাশাপাশি দেশের মানুষকে উন্নয়নের ধারায় সম্পৃক্ত করেন বঙ্গবন্ধু। দেশগড়ার এই সংগ্রামে চলার পথে তার দৃঢ় বিশ্বাস ছিল, তার দেশের মানুষ কখনও তার ত্যাগ ও অবদানকে ভুলে যাবে না। অকৃতজ্ঞ হবে না। নবগঠিত বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান বঙ্গবন্ধু তাই সরকারি বাসভবনের পরিবর্তে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কের সাধারণ বাড়িটিতেই বাস করতেন।

মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত অপশক্তির ষড়যন্ত্র থেমে থাকেনি। পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে তারা একের পর এক চক্রান্তের ফাঁদ পেতেছে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সেনাবাহিনীর বিপথগামী উচ্চাভিলাষী কয়েকজন সদস্যকে ষড়যন্ত্রকারীরা ব্যবহার করেছে ওই চক্রান্তেরই বাস্তব রূপ দিতে। এরাই স্বাধীনতার সূতিকাগার বলে পরিচিত ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়িটিতে হামলা চালায় গভীর রাতে। হত্যা করে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারকে। বিশ্ব ও মানবসভ্যতার ইতিহাসে ঘৃণ্য ও নৃশংসতম এই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে সেদিন তারা কেবল বঙ্গবন্ধুকেই নয়, তার সঙ্গে বাঙালির হাজার বছরের প্রত্যাশার অর্জন স্বাধীনতার আদর্শগুলোকেও হত্যা করতে চেয়েছিল। মুছে ফেলতে অপপ্রয়াস চালিয়েছিল বাঙালির বীরত্বগাথার ইতিহাসও। বঙ্গবন্ধুর নৃশংসতম হত্যাকান্ড বাঙালি জাতির জন্য করুণ বিয়োগগাথা হলেও ভয়ঙ্কর ওই হত্যাকাণ্ডে খুনিদের শাস্তি নিশ্চিত না করে বরং দীর্ঘ সময় ধরে তাদের আড়াল করার অপচেষ্টা হয়েছে। এমনকি খুনিরা পুরস্কৃতও হয়েছে নানাভাবে। হত্যার বিচার ঠেকাতে কুখ্যাত ‘ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ’ জারি করেছিল বঙ্গবন্ধুর খুনি খন্দকার মোশতাক সরকার।

১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে যাঁরা হত্যা করেছেন, তাঁরা সবাই না হলেও কেউ কেউ প্রকাশ্যে দায় স্বীকার করেছেন। ফলে তাঁদের অপরাধ শনাক্ত করা সহজ হয়েছে। কিন্তু নেপথ্যে যাঁরা ছিলেন বলে অভিযোগ আছে, তার পক্ষে তেমন তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায় না। অনেক তথ্য-প্রমাণ মুছে গেছে বা মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে হয়েছে।

বঙ্গবন্ধুর খুনিদের সঙ্গে জিয়াউর রহমানের যে সম্পর্ক ছিল, অনুরুপভাবে ঘনিষ্ঠতা ছিল জাসদ নেতা কর্নেল আবু তাহেরের। তাহের তখন সরকারি সংস্থায় চাকরি করেও জাসদ রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। জাসদের সশস্ত্র শাখা গণবাহিনীর প্রধান ছিলেন। সেনাবাহিনীর ভেতরে গঠিত বিপ্লবী সৈনিক সংস্থারও প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন তিনি। কর্নেল তাহের ১৫ আগস্ট সকালে নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকার রেডিও স্টেশনে আসেন, বঙ্গভবনে যান এবং খুনিদের নানা পরামর্শ দেন।

বঙ্গবন্ধু হত্যার সঙ্গে জিয়াউর রহমান জড়িত। তিনি খুনিদের বিদেশে কূটনীতিকের চাকরি দিয়েছেন। জিয়া ও খালেদা জিয়া খুনিদের রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসিত করেছেন।

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচার হয়েছে ১১ বছর আগে। ছয় খুনির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। বিদেশে পলাতক ছয় ঘাতকের মধ্যে আজিজ পাশা মারা গেছেন। বাকি পাঁচজনের মধ্যে নূর চৌধুরী কানাডা ও রাশেদ চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রে পলাতক। কিন্তু কর্নেল আবদুর রশীদ, শরিফুল হক ডালিম ও মোসলেহউদ্দিন কোথায় আছেন, নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। ভারতীয় গণমাধ্যমে খবর বের হয়েছিল, মোসলেহউদ্দিন সেখানে মারা গেছেন।দোষীদের দেশে এনে শাস্তির আওতায় আনা হোক এটাই চাই।

বাংলাদেশ যতদিন থাকবে, পৃথিবীর ইতিহাস যত দিন থাকবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব একইভাবে প্রজ্জ্বলিত হবেন প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ে, প্রতিটি মুক্তিকামী, শান্তিকামী, মানবতাবাদীর হৃদয়ে। বঙ্গবন্ধুর জীবন দর্শন চিরকাল বাঙালি জাতিকে অনুপ্রাণিত করবে- পথ দেখাবে। বাঙালি জাতি শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসায় বাংলাদেশের ইতিহাস বিনির্মাণের কালজয়ী এ মহাপুরুষকে চিরকাল স্মরণ করবে।

যে স্বপ্ন ও প্রত্যাশা নিয়ে জাতির পিতা পাকিস্তানের শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে ‘স্বাধীন ও সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠা করেন, দীর্ঘ পথ-পরিক্রমায় তারই সুযোগ্য উত্তরসূরী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে আজ স্বাধীন বাংলাদেশ পাকিস্তান থেকে অর্থনৈতিক সব সূচকে এগিয়ে। অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসা ও বাসস্থান এই পাঁচটি সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার আজ মানুষের দোরগোড়ায়।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা আজ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পথে । বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল রাষ্ট্র। দ্রুত উন্নয়নের মাধ্যমে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার পথে বাংলাদেশ। একটি সুজলা-সুফলা-অসাম্প্রদায়িক চেতনার আত্মমর্যাদা সম্পন্ন বাংলাদেশই হোক আজকের দিনের অঙ্গীকার।

বঙ্গবন্ধুসহ ১৫ অগাস্টের সকল শহীদের প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।

সাবাত আল ইসলাম,
ছাত্রনেতা,
বিজয় একাত্তর হল ছাত্রলীগ,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

শেয়ার করুন

একই ধরনের খবর
ব্রেকিং নিউজ