1. suhagranalive@gmail.com : admin :
September 20, 2021, 2:05 am
শিরোনাম:
পিরোজপুরে তিন‘শো’ পরিবার পেল প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সহযোগিতা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক প্রচেষ্টার ফসল পদ্মা সেতুর উপরে সড়কপথের কাজ শতভাগ শেষ ইন্দুরকানীতে ছাত্র ইউনিয়নের নতুন কমিটি ২১ আগস্টে ঘাতকেরা ১৫ ই আগস্টের কালো অধ্যায়ের দাড়ি টানতে চেয়েছিলো!.. কবিতাঃ মহান নেতা শেখ মুজিব, “যত দূরে যাও পাখি, দেখা হবে ফের,স্বাধীন ঐ আকাশটা শেখ মুজিবের” শোকের মাসে যুবলীগ নেতা লিটন সিকদার এর তত্ত্বাবধানে ৭০০ অসহায় পরিবার পেল খাদ্য সহায়তা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পিরোজপুরে বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব এর ৯১তম জন্ম বার্ষিকী পালন ২০ বছর পরে স্বেচ্ছাসেবক লীগের পিরোজপুর জেলা কমিটি ঘোষণা পিরোজপুরে চালু হলো বিনামূল্যে অক্সিজেন ব্যাংক

২১ আগস্টে ঘাতকেরা ১৫ ই আগস্টের কালো অধ্যায়ের দাড়ি টানতে চেয়েছিলো!..

  • প্রকাশের সময় Saturday, August 21, 2021
  • 83 জন দেখেছেন

বাংলার ইতিহাসে স্বাধীনতার সূর্য প্রথম অস্তমিত হয় ১৭৫৭ সালের পলাশির প্রান্তরে। সেদিন সুধু সিরাজুদ্দৌলার পরাজয় হয় নি, হয়েছিলো পুরো ভারতবর্ষের! আর বিট্রিশদের সাথে সহযোগিতার নেপথ্যে ছিলেন মিরজাফর, মিরন, উমিচাঁদদের মতো লোক। ভারতীয় উপমহাদেশ সুধু কিছু লোকের বেইমানির জন্য ১৯০ বছর বিট্রিশদের পরাধীনতার আচঁলে থাকতে হলো।১৯০ বছর বিট্রিশদের বিরুদ্ধে লড়াই ও সংগ্রামের পর,২৩ বছর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লড়াই সংগ্রাম -যুদ্ধের মাধ্যমে এ দেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছিলো।

স্বাধীনতার জন্য মানুষ যেমন রক্ত দিয়েছে,তেমনি যুগে যুগে মীরজাফররা দেশের মাটি ও মানুষের সাথে বেইমানি করছে।

বঙ্গবন্ধু আর বাংলাদেশ নামটি সমার্থক। এই মাটিতে তিনি জন্মেছিলেন বলেই স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে। এই মাটিতে তিনি জন্মেছিলেন বলেই বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাভাষীদের জন্য একটি স্বাধীন রাষ্ট্র মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। এই মাটিতে তিনি জন্মেছিলেন বলেই লড়াই আর সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি হাজার বছরের পরাধীনতার গ্লানি মুছে ফেলে ছিনিয়ে এনেছিল স্বাধীনতার লাল সূর্যটা।পলাশীর প্রান্তরের যে স্বাধীনতার সূর্যটা অস্তমিত হয়েছিলো ৭১ এ স্বাধীনতার মাধ্যমে সেটা আমার উদিত হয়।

কিন্তু যুগে যুগে মীরজাফররা দেশের কখনোই ভালো চায় নি।তার সুধু নিজ স্বার্থে আখের গোছাতেই ব্যস্ত।তাইতে পচাত্তরের ১৫ ই আগস্ট বঙ্গবন্ধুর সহ তার পরিবারকে নিশ্বংস ভাবে হত্যা করা হয়েছিলো।ঘাতকরা শুধু জাতির পিতাকে হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি, হত্যা করেছে বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, পুত্র শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শেখ রাসেল, পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজি জামাল, ভাই শেখ নাসেরসহ পরিবারের অন্যান্য স্বজনদের। দেশের বাইরে অবস্থান করার কারণে সেদিন ভাগ্যক্রমে বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানা প্রাণে রক্ষা পেয়েছিলেন। বেঁচে গেলেও এখনো পিতা-মাতা-ভাই ও স্বজনহারা দুই বোন ক্রমাগত পাড়ি দিয়ে চলেছেন দীর্ঘ এই শোকের সাগর। শোকের এই পথ কখনও ফুরোয় না।আগস্ট বেদনার মাস। আগস্ট শোকের মাস।

তাই একাত্তরের পরাজিত শক্তি জানতো বঙ্গবন্ধু যদি বেঁচে থাকেন, তাহলে বাংলাদেশকে কখনোই পাকিস্তানে বা পাকিস্তানি ভাবধারায় ফিরিয়ে নেওয়া যাবে না। বঙ্গবন্ধু যদি বেঁচে থাকেন, তাহলে বাংলাদেশকে একটি অকার্যকর ও ব্যর্থ রাষ্ট্র বানানো যাবে না। তাই স্বাধীনতার শুরু থেকেই তারা থেমে ছিল না। নানাবিধ চক্রান্ত আর ষড়যন্ত্রে মেতে ওঠে তারা। যে কোনো মূল্যে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে এই অপশক্তি। একাত্তরের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে তারা বেছে নেয় আগস্ট মাসকে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসতে পারে, কেন এই মাস? কারণ এই মাসে পাকিস্তানের সৃষ্টি হয়েছিল। তাই পাকি-চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে পাকিস্তান সৃষ্টির মাসটিকেই তারা বেছে নিয়েছিল বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার জন্য। আগস্ট মাসের ১৪ তারিখে পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবস। সেই দিন দিবাগত রাতে, অর্থাৎ ১৫ আগস্ট রাতে বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রতীক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করেছিল ঘাতকচক্র। এই হত্যাযজ্ঞের ধারাবাহিকতায় হত্যা করা হয় জাতীয় চার নেতাসহ হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধা ও প্রগতিশীল নেতাকর্মীদের। মুক্তিযুদ্ধের সকল অর্জন ও চেতনাকে ভূলুণ্ঠিত করা হয়। হরণ করা হয় মানুষের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার। বিপর্যস্ত জনজীবন, দিশেহারা মানুষ। সীমাহীন দুঃশাসন ও দমন-পীড়নে বাংলাদেশ প্রবেশ করে এক অন্ধকার যুগে।

বঙ্গবন্ধুকে হারিয়ে নেতৃত্বশূন্য আশাহীন অসহায় মানুষ কোথায় যাবে, কী করবে, কার কাছে যাবে কিছুই ভেবে পায় না। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে অপশক্তি প্রাথমিকভাবে সফল হলেও তারা জানে না যে জাতির পিতার রক্ত যেই ধমনিতে বহমান সেই রক্ত কখনো মানুষের অসহায়ত্তে নিশ্চুপ বসে থাকতে পারে না। এমনি এক প্রেক্ষাপটে ১৯৮১ সালের ১৭ মে স্বৈরশাসকের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে, প্রাণের মায়াকে তুচ্ছ করে, স্বজন হারানোর শোককে শক্তিতে পরিণত করে বাংলার জনগণকে তার ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা ফিরে আসেন স্বদেশের মাটিতে। আবারও প্রমাণিত হলো রক্ত কথা বলে। তাকে বরণ করে নিতে আসা মানিক মিয়া এভিনিউর বিশাল জনসমুদ্রের উদ্দেশ্যে সেদিন তিনি বলেছিলেন, “আমি সব হারিয়ে আজ আপনাদের মাঝে ফিরে এসেছি শুধু আমার পিতার অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করে দুখী মানুষের মুখে হাসি ফুটাবার জন্য। প্রয়োজনে আমার পিতার মতো জীবন দিব, তবু, আপনাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে আপস করবো না।”

তার এই সাহসী উচ্চারণে বাংলার মানুষ আবার আশা ফিরে পেল। গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার ফিরিয়ে আনতে বদ্ধপরিকর শেখ হাসিনার সাহসী নেতৃত্বে গড়ে ওঠে দুর্বার গণ-আন্দোলন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে মানুষ আবার ঝাঁপিয়ে পড়ে সংগ্রামে। তার এই চলার পথ কখনোই কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না। বারবার তার ওপর আঘাত এসেছে, ষড়যন্ত্র হয়েছে, জেল-জুলুম সইতে হয়েছে। কিন্তু তার প্রতিজ্ঞা থেকে তাকে একবিন্দু পরিমাণও বিচ্যুত করা যায়নি। শুধুমাত্র রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তিনি তার অপরিহার্যতা প্রমাণ করেননি, ১৯৯৬ সালে সরকার গঠন করেও তিনি দেখিয়ে দিয়েছিলেন যে তার নেতৃত্বে কীভাবে আবার বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়াতে পারে।

২০০৪ সালের, ২১ আগস্ট বুধবার বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে এই দিনে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের ‘সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতিবিরোধী’ সমাবেশে এক নারকীয় গ্রেনেড হামলার ঘটনা বাংলাদেশে এক কলঙ্কময় অধ্যায়ের জন্ম দেয়। এ দিন আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী হতাহতের পাশাপাশি আহত হন শেখ হাসিনা।

তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে পরিচালিত পৈশাচিক এই হামলায় সেদিন প্রয়াত রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানের সহধর্মিণী ও মহিলা আওয়ামী লীগের নেত্রী বেগম আইভি রহমানসহ আওয়ামী লীগের ২৪ জন নেতাকর্মী নিহত হয়েছিলেন। আহত হয়েছিলেন আরও ৪০০ জন। আহতদের অনেকেই চিরতরে পঙ্গু হয়ে গেছেন। শরীরে গ্রেনেডের স্প্রিন্টার আজও বয়ে বেড়াচ্ছেন অনেকে।

ঘাতকচক্রের লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বহীন করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে রুখে দেওয়া এবং দেশে স্বৈরশাসন ও জঙ্গিবাদ প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু বাংলাদেশের জনগণ তা হতে দেয়নি।

১৫ আগস্ট ১৯৭৫ সালে যে চেষ্টাটির উদ্বোধন হয়েছিল ২১ আগস্টে সে প্রচেষ্টার দাঁড়ি টানার চেষ্টা হয়েছে।

সাবাত আল ইসলাম,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়,

ছাত্রনেতা ও কলামিস্ট।

শেয়ার করুন

একই ধরনের খবর
ব্রেকিং নিউজ